আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (তৃতীয় খণ্ড)
ভাষান্তর – পৃথ্বীরাজ সেন
কামিনী প্রকাশালয়
প্রথম প্রকাশ : শুভ জন্মাষ্টমী, ১৪০৫
উৎসর্গ
আগাথার মুগ্ধ পাঠক দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়কে

আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অ...
পৃথ্বীরাজ সেন
| পৃথ্বীরাজ সেন | |
| thriller |
Posted byপ্রিয়া দেব17-Jul-2025
Change color
ভাষান্তর – পৃথ্বীরাজ সেন
কামিনী প্রকাশালয়
প্রথম প্রকাশ : শুভ জন্মাষ্টমী, ১৪০৫
উৎসর্গ
আগাথার মুগ্ধ পাঠক দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়কে
লর্ড এডওয়্যারস ডেথ (A THEATRICAL PERFORMANCE) – (পোয়ারো)
নাটকীয় ঘটনা
মানুষের স্মৃতি খুব ছোট। জর্জ অ্যালফ্রেড ভিনসেন্ট মাস, ব্যারণ এডওয়্যারের মৃত্যু অতীতহয়ে গেছে। সেখানে নতুন উত্তেজনা গ্রহণ করেছে।
আমার বন্ধু হারকিউল কখনও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়। এটি আমি বলি আমার নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করে। হারকিউল এর একটা নিজস্ব মতামত প্রকাশ করে–যখন অন্য কেউ বিফল হয়। সে সবর্দা দেখে যে তার মতবাদ আগন্তুকের প্রতি ঠিক পথে যায়। যাইহোক এটা ঠিক তার উদ্ভাবন সত্যের প্রতি ঘটনার সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।
আমি মনে করি সময়ে যখন সে তার কাছে আসে আমি জানি যে সেই ঘটনা কালো এবং সাদা হবে। আমি জানি আসা এবং যাওয়া ঘটনার শুরুতে আমার ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারি।
আমি সেই দিনটা মনে করতে পারি যেদিন পোয়ারো একলা ছোট বসার ঘরে বসেছিল। আমার আর তার মধ্যে একটা তর্কবিতর্ক চলছিল।
যখন আমাদের অনুসরণ শেষ হলো তখন সে তার সাথী ব্যারণ মার্টিন যে সিনেমার হিরো তার সঙ্গে ছিল। সে এবং জন উইনকিনসন অনেক সিনেমায় একসঙ্গে জুটি বেঁধেছিল।
লেডি এডওয়্যার বললে এটা সুন্দর নয় কি? সে হাসল, জেন তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে। আমি ব্যারণের ইয়ার্কি বুঝতে পারলাম না। এরপর কি ঘটল তা আমি মনে করি একটা কাকতালীয় ঘটনা। থিয়েটারের পর পোয়ারো আর আমি সাপার খাবার জন্য স্যাভয়ে গেলাম। আমাদের পরের টেবিলে লেডি এডওয়্যার ছিলন। ব্যারণ মার্টিন এবং আরো দুজন ছিলেন যাদের আমি চিনি না। আমি তাদের খুঁজে পোয়ারোকে দেখালাম এবং যখন আমি তা করলাম, আরেকজন দম্পতি তাদের জায়গা নিল ঠিক আমাদের পেছনে। মহিলার মুখটা আমি খুব চিনি কিন্তু আমি কিছুতেই তা মনে করতে পারলাম না। তারপর আমি বুঝতে পারলাম এটা কারলেটা অ্যাডম সে নাটকে ছিল। লোকটিকে আমি চিনি না।
কারলেটা কালো পোষাকে সেজে ছিলো। তার মুখটা এমন ছিল না যা আমার ভালো লাগে। পোয়ারোর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি টেবিলের প্রশ্নের মধ্যে ছিল। আমি লেডি এডওয়্যারের অভিনয় দেখেছি। সে খুব ভালো অভিনেত্রী। এই নাটকটি তাকে নিয়ে লেখা হয়েছিল। সে আমার কাছে সেইসব মহিলার মতো, যারা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এইরকম মানুষরা জীবনে বিপদ ডেকে আনে। এই মহিলা শুধু তার নিজের সম্পর্কে জানে শুনে অবাক হলাম। সে তার চারপাশের বিপদ ও দুর্ঘটনা লক্ষ্য করে না। তারা শুধু নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থাকে এবং সেইজন্য তারা একা হয়ে যায়। আমি উৎসাহ বোধ করলাম মিস অ্যাডামস সম্পর্কে তোমার কি মতামত। সে বলল, সে আজকে একজন জ্যোতিষীকে দেখেছে, যে হাত দেখে মানুষের চরিত্র বলে দেয়।
আমি বললাম তুমি ওর থেকে ভালো করবে। তুমি আমার উপর বেশি বিশ্বাস রাখছ হেস্টিংস, সে বলল। তুমি কি জান আমাদের প্রত্যেকের জীবনে একটি কালো ভবিষ্যৎ আছে, যা আবেগ এবং হতাশা দিয়ে গঠিত। একজন মানুষের হোট মতামত তৈরী করে কিন্তু দশবারের মধ্যে নবারই তা ভুল হয়।
আমি বললাম তা নয়। আমি জানি যে তোমার কম বুদ্ধি আমি তা জানি তবুও আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি আমি একজন বিনয়ী মানুষ। আমি বললাম যে তুমি তা নও, তাই তুমি আর এর জন্য কোন ঝুঁকি নেবে না বিচারের জন্য। পোয়ারো বললেন যে এটা সবকিছুই আচ্ছাদিত করে।
পোয়ারো বলল, দুর্ভাগ্য আমাদের তাড়া করে ফিরছে। কিন্তু আমার মনে হয় মিস অ্যাডামস আত্মহত্যা করবেন। সেখানে সে যা সফলতা তৈরী করে। এছাড়া আরো একটা বিপদের সম্ভাবনা আছে, এই বিপদ যে আমরা কথা বলছি। তার মানে? ভালোবাসার পয়সা এই ধরনের ঘটনাবহুল রাস্তা সৃষ্টি করে। এটা হয়তো আমাদের মধ্যেও সৃষ্টি করে। যদি তুমি সবসময় পয়সার দিকে তাকাও তাহলে অন্য কিছু দেখতে পাবে না সবকিছু ছায়া দেখাবে।
তোমার চরিত্রের মনস্তত্ব খুবই আকর্ষণীয়। মনস্তত্ব নিয়ে সে খুব উৎসাহী।
আমি তাকে অনুসরণ করলাম। আমি লক্ষ্য করে দেখেছি যখন আমরা একসঙ্গে চলি তখন তুমি আমায় ধাক্কা দাও। তুমি কখনও বোঝনা যে যখন তুমি আরাম কেদারায় শোও এবং চোখ বুজে যায় তখন তুমি অনেক কাছে পৌঁছে যাও কোন সমস্যার সমাধানের।
না আমি যখন শুয়ে থাকি তখন একটা জিনিষ আমার চোখের সামনে ঘটে।
আমি এটা লক্ষ্য করেছি, এটা অদ্ভুত ব্যাপার। এই মুহূর্তে মস্তিষ্ক নিয়েই চঞ্চলভাবে কাজ করে যায়, কোন কেঁপে ওঠা উত্তেজনা নিয়ে নয়। মস্তিষ্কের ধূসর কোষগুলির প্রয়োজন মানসিক শান্তির জন্য। তারা কেবলমাত্র বিশ্বাসযোগ্য সত্যের উপর কুয়াশা সরানোর জন্য।
আমি ভীত হলাম যে আমি আমার মনোযোগর অভ্যাসগুলিকে দূরে সরাতে পেরেছি যেটাকে পোয়ারো ধূসর কোষের কথা বলেছে।
তুমি আমাকে রাগাচ্ছ পোয়ারো; লেডি এডওয়্যার তোমার কাছ থেকে চোখ নিতে পারে না। পোয়ারো বলল যে, আমি নিশ্চিত সে আমার কথা মান্য করেনি। আমি মনে করি এটি একটি বিখ্যাত। আমি বলছি সে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে আসে ব্যারণ মার্টিন এর প্রতিবাদ জানালেও সে কিন্তু তার কথা শুনবে না।
জন উইনকিনসন আমাদের টেবিলের কাছে চলে এলেন। পোয়ারো উঠে দাঁড়ালেন, আমিও। মিঃ হারকিউল পোয়ারো, খোলা গলায় বললেন, হ্যাঁ আপনার প্রয়োজনের জন্য আপনার সঙ্গে আমি নিশ্চয়ই কথা বলব। নিশ্চয় ম্যাডাম আপনি বসুন। না, এখানে নয় আমি আপনার সঙ্গে একান্তে কথা বলতে চাই। আমার সঙ্গে আপনি কি ওপরে যেতে চান।
ব্যারণ মার্টিন তার সঙ্গে যোগ দিলেন। জেন তার কথার দিকে সহজে যেতে চাইছিলেন না। কি ব্যারণ, ব্যাপারটা কি হয়েছে? আমরা সাপার খেয়ে হোটেলের স্যুটে বসে থাকব।
সে তার পিছনে গেল এবং ঘুরে দাঁড়াল এবং তার পিছনে কতগুলি তর্ক করছিল। তার কথার মধ্যে একবার দুবার সে কারলেটা অ্যাডামের দিকে তাকিয়েছিল। এবং আমি অবাক হচ্ছিলাম যে সে যেকোন কিছু ওই আমেরিকান মেয়েটির সঙ্গে করতে পারে।
আমাদের সম্মত্তি অসম্মতির কিছুই তার মনের মধ্যে নেই। সে আমাদের ছেড়ে গেল। আমার সৌভাগ্য এটা সে বলছিল যখন সে লিফটের কাছে এল। এটা সত্যিই খুব সুন্দর যে সবকিছুই আমার দিকে ভালোভাবে হচ্ছে।
পোয়ারো বললো জানি তুমি পারবে। আমি জানি যেসব মানুষের কথা শুনেছি তার মধ্যে তুমি একজন সুন্দর মানুষ। এই ত্রিভুজের মধ্যে যে আমি পড়ে আছি আমি জানি তুমি এর থেকে বের করতে পারবে।
আমরা দোতলায় পৌঁছলাম, সে আমাদের করিডরে নিয়ে গেল, সে দরজা খুলে স্যুটের মধ্যে ঢুকল।
সে ঘরের ভেতরে গেল, একটা ছোট গয়নার ব্যাগ ছিল টেবিলের উপর। সে চেয়ারের উপর বসে বলল যে, কোনরকমে আমি আমার স্বামীর কাছ থেকে অব্যাহতি পেতে চাই।
.
সাপার পার্টির মধ্যে
কিছুক্ষণ নিজের মধ্যে হতবাক হয়ে গেলেন পোয়ারো। বললেন যে আমি স্বামীর থেকে ছাড়ানোর কোন উপায় জানি না। হ্যাঁ আমি জানি এর জন্য উকিলের প্রয়োজন। আমি অসুস্থ ছিলাম এবং আমি অনেকের কাছে গেছিলাম, কিন্তু কেউ আমার কোন ভালো করেনি। তারা শুধু আইন জানে এবং তাদের কোন সাধারণ জ্ঞান নেই, আর আপনি মনে করেন তা আমার আছে, হ্যাঁ আমি তাই শুনেছি।
ম্যাডাম আমার হয়তো বুদ্ধি, আপনি কি করে জানলেন যে এটা আমার আছে, আপনার কথামতো এটা আমার অভ্যাস নয়।
আমি এইগুলো দেখিনি, এটা একটা সমস্যা। জেন বললেন, আমি বলতে চাই আপনি সে ধরনের মানুষ নন যে সমস্যার প্রতি ভীরু। এই ক্রান্তিবাক্য শুধু আপনার ম্যাডাম, আমি বিচ্ছেদের উপর অনুসন্ধান করতে